শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৫০ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
সমাজের নিকৃষ্ট লোকেরা এমপি-মন্ত্রী হন: স্পিকার শান্তিগঞ্জে প্রধান শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে বিজয়া দশমীর শুভেচ্ছা রাষ্ট্রপতি ও আব্দুল মঈন খানের বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি মাওলানা মুহিউদ্দীন রাব্বানীর শান্তিগঞ্জে পূজা উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে ২২টি পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শান্তিগঞ্জে মহামায়া যুব সংঘের উদ্যোগে গুরুজন সংবর্ধনা ও পুরস্কার বিতরণ সুনামগঞ্জে তরুণদের নিয়ে FIVDB-RAISE প্রকল্পের কমিউনিটি আউটরিচ সভা অনুষ্ঠিত শান্তিগঞ্জে বিএনপি নেতাদের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও অনুদান প্রদান শান্তিগঞ্জে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন প্রতিমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন ইশরাক পবিত্র ওমরাহ পালনে দোয়া প্রার্থী  জগন্নাথপুর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক জামাল উদ্দিন 

শান্তিগঞ্জে কলেজ পড়ুয়া মেধাবী ছাত্র এখন মুদির দোকানের কর্মচারী 

শান্তিগঞ্জে কলেজ পড়ুয়া মেধাবী ছাত্র এখন মুদির দোকানের কর্মচারী 

সামিউল কবির, শান্তিগঞ্জ: নানা টানাপোড়েন আর বাধা, কষ্ট ও দুঃখ পেরিয়ে কলেজের চৌকাঠে পা রাখেন শান্তিগঞ্জ উপজেলার দরিদ্র পরিবারের সন্তান মোঃ শামসুদ্দোহা। শান্তিগঞ্জের আব্দুল মজিদ কলেজের একাদশ শ্রেনীর ২য় বর্ষে পড়ছেন তিনি। বর্তমানে উপজেলার শান্তিগঞ্জ বাজারের একটি মুদির দোকানে কর্মচারীর কাজ করে নিজের লেখাপড়া ও বেঁচে থাকার খরচ জোগাচ্ছেন মোঃ শামসুদ্দোহা।
শামসুদ্দোহার এমনও দিন গিয়েছে সকালের নাশতা পান্তাভাত তা খেয়েই টিউশনি করতে বের হতে হয়েছে। টিউশনি থেকে ফিরে বিদ্যালয়ে। শুধু পানি খেয়ে টিফিনের সময় কেটেছে। বিকেলে বাড়িতে ফিরে নাশতা বা চালভাজা। তারপর আবার টিউশনি। রাত্রে আবার নিজের রান্নাবান্না হোম ওয়ার্ক আর এভাবে লেখাপড়া চালিয়ে ২০১৯ সালে  এসএসসি পাশ করেন তিনি।
এসএসসি পাশের পর কলেজে ভর্তি হবেন সে টাকাও নাই তার হাতে। পরে অন্য একজনের দয়ায় ও আর্থিক সাহায্যে কলেজে ভর্তি হবার সুযোগ পান তিনি। কলেজে ভর্তি হয়ে টিউশনির পরিমান টা আরও বাড়িয়ে দিয়েছিলেন শামসুদ্দোহা। একসময় লেখাপড়ার পাশাপাশি টিউশনি করে ভালই চলছিলো শামসুদ্দোহার জীবন, চোখেমুখে এমনও  স্বপ্ন বুনছিলেন যে লেখাপড়া শেষ করে একটা বড় চাকুরি করে নিজেকে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করবেন। কিন্তু এতে বাদ সাধে মহামারী করোনাভাইরাস। করোনাকালে অন্যের বাড়িতে গিয়া টিউশনি করার সুযোগ হারিয়ে চোখেমুখে অন্ধকার দেখেন তিনি।
অবশেষে তার এক বন্ধুর পরামর্শে উপজেলার শান্তিগঞ্জ বাজারে এক মুদির দোকানে সেলসম্যানের চাকুরী নেন তিনি।  প্রতিদিন সকাল থেকে রাত ১১.০০ টা পর্যন্ত শ্রম দিয়ে চলেছেন মেধাবী ছাত্র শামসুদ্দোহা।
শামসুদ্দোহার বাড়ি সুনামগঞ্জ জেলার শান্তিগঞ্জ উপজেলার ২ নং জয়কলস ইউনিয়নের ডুংরিয়া গ্রামে। তাঁর বাবা আজাদ মিয়া ছিলেনা একজন দিনমজুর। মায়ের নাম রিনা বেগম, মায়ের আদর বুঝার আগেই মাত্র ২ বছর বয়সেই মাকে হারান তিনি, ২ বোন ১ ভাইয়ের সংসারে শামসুদ্দোহা ছিলেন সবার ছোট, বাবা থাকতেই বড় দু বোনের বিয়ে হয়ে যায় অনত্রে। যখন অষ্টম শ্রেনীতে পড়েন তখন বাবাকে হারিয়ে একদম একা হয়ে যান তিনি। নিদারুণ কষ্ট আর  পিতামাতা হারা মেধাবী শামসুদ্দোহা দারিদ্র্যতা কে উপেক্ষা করে আত্মপ্রত্যয় আর অদম্য মনোবলের জোরে তার জীবন জীবিকা আর লেখাপড়া কে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।
শামসুদ্দোহা বলেন, ‘দরিদ্র পরিবারে নানা সংকটের মধ্য দিয়ে আমাকে লেখাপড়া করতে হচ্ছে। ইচ্ছাশক্তির বলেই এখনো লেখাপড়া ধরে রেখেছি। পাড়ার অন্য ৮/১০ টা ছেলের জীবনের মতো আমার জীবন জীবিকা ছিলনা। এতিম হয়ে যাওয়া এবং দারদ্রিতাকে সাথে করেই আমি আমার জীবনযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছি। আজও আমার নিজের একটা বাড়ি নাই, অন্যের বাড়িতে থাকি। আমার চেয়ে অসহায় আর গরীব হয়না, এরপরও আমি সরকারি কোন সাহায্য সহযোগিতা পাইনা।
এ ব্যাপারে ধনাট্য হৃদয়বান ব্যক্তির আর্থিক সহযোগিতা এবং সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে মেধাবী শামসুদ্দোহা উচ্চ শিক্ষা অর্জন করে জীবনের লক্ষে পৌছাতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদী।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published.

© All rights reserved © 2017-2026 Jagannathpurnews.Com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com